বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কুমিল্লা জেলা শাখার বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত
তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা থেকে।।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ়করণ, সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার এক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ১ জুন (সোমবার) সকাল সাড়ে হতে বিকেলে ৫টা পর্যন্ত কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কোটবাড়ি রোডস্থ দৌলতপুর শহীদ স্মৃতি ইনস্টিটিউট হলরুমে "ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার- ধর্মীয় রাষ্ট্র নয়, ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই" - শ্লোগান সামনে রেখে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বর্তমান সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যালোচনা, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি চন্দন কুমার রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা ঐক্য পরিষদ সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তাপস কুমার বকসী। এছাড়াও বক্তব্য দেন জেলা শাখার সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট বিকাশ চন্দ্র সাহা, কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক কমল চন্দ খোকন, জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রতন চন্দ্র দাস, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীলিপ কুমার চন্দ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশীষ দাস এবং বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দে প্রমুখ। কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনের জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, নতুন সদস্য সংগ্রহ, তরুণ প্রজন্মকে সংগঠনের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সকল সম্প্রদায়ের সমান অংশগ্রহণ জরুরি। এ লক্ষ্যে সমাজের সর্বস্তরে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
সভা শেষে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করা এবং আগামী দিনের কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ “ঐক্য হলো মুক্তির পথ” এই প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে সংগঠনের লক্ষ্য, আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।