ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় কৃষকলীগ নেতার নাম, বাদ মেধাবীরা
মোঃ জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ
‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি ২০২৬’-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর কুড়িগ্রামের উলিপুরে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও পরীক্ষার ফলকে পাশ কাটিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়ে তালিকা করা হয়েছে। এমনকি তালিকায় স্থানীয় এক কৃষকলীগ নেতার নাম থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা ঘেঁটে দেখা যায়, দলদলিয়া ইউনিয়ন থেকে স্থানীয় কৃষকলীগ নেতার রোল নম্বর রয়েছে। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, যোগ্যতা ও পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও অনেক মেধাবী তরুণকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
দলদলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মুসাব্বির মুসা অভিযোগ করে বলেন, “তিনি একজন চিহ্নিত আওয়ামী দোষর। তাকে এখানে সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। সব জায়গায় যদি আওয়ামী লীগের দোষরদের অগ্রাধিকার দেওয়া ও পুনর্বাসন করা হয়, তাহলে মাঠের অবস্থা আরও খারাপ হবে। অথচ আমাদের এলাকার অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ভালো পরীক্ষা দিয়েও সুযোগ পায়নি।”
দুর্গাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উলিপুর উপজেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক আতাউর রহমান বলেন, “উপজেলা প্রশাসন কোটা বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রশাসনের চেয়ারে বসে সম্পূর্ণ সমঝোতার ভিত্তিতে এই নিয়োগ দিয়েছে। আমার ইউনিয়নের ১৬ জনের মধ্যে ১২ জনই দলীয় লোক। যাদের নেওয়া হয়েছে, তাদের চেয়ে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীর যোগ্যতা বেশি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী বলেন, “আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং আমি ডিগ্রি পাস। নিয়োগের শর্ত ও নিয়ম অনুযায়ী আমাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। কিন্তু আমার ওয়ার্ডে যাদের নাম চূড়ান্ত হয়েছে, তারা এইচএসসি পাস এবং কারও পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। তারা বিএনপির কর্মী।”
অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, পরীক্ষার ফল ও নির্ধারিত শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা প্রকাশ্যে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে চূড়ান্ত তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া, পরীক্ষার নম্বর এবং অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এদিকে নিয়োগের তালিকা নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ায় উলিপুরে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। চাকরিপ্রত্যাশীদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতেই নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।