আনন্দ-উৎসবে শেষ হলো সিংড়ার ঐতিহ্যবাহী বিয়াশ জামাই মেলা
ছ
জামাইদের বড় মাছ কেনার প্রতিযোগিতা, দই-মিষ্টি, খেলনা ও গৃহস্থালির নানা পণ্যের কেনাবেচার মধ্য দিয়ে আনন্দ-উৎসবে শেষ হলো নাটোরের সিংড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিয়াশ জামাই মেলা। প্রায় ৪৫ বছরের পুরোনো এ মেলাকে ঘিরে প্রতি বছরের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে মুখর ছিল পুরো এলাকা।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার ২নং ডাহিয়া ইউনিয়নের বিয়াশ স্কুল মাঠে বৈশাখের শেষ মঙ্গলবার উপলক্ষে প্রতিবছর তিনদিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়। সে অনুযায়ী এ বছর গত ১১ মে সোমবার বিকেল থেকে মেলা শুরু হয়। মঙ্গলবার ছিল মূল আয়োজন এবং বুধবার বউ মেলার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ উৎসব।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেলায় রুই, কাতলা, বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৫ থেকে ১৫ কেজি ওজনের বড় বড় মাছের সমারোহ। এসব মাছ কিনতে জামাইদের মধ্যে ছিল আলাদা উৎসাহ ও প্রতিযোগিতা। কে কত বড় মাছ কিনে শ্বশুরবাড়িতে নিতে পারবেন, তা নিয়েই ছিল আলোচনা।
মেলায় আসা শাহরিয়ার নামের এক জামাই জানান, শ্বশুরবাড়িতে এসেছেন তিনি। ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে ১০ কেজি ওজনের একটি বোয়াল মাছ কিনেছেন।
সিংড়া পৌর জামায়াতের নেতা প্রভাষক সাদরুল উলা বলেন,বছরে একবার এই মেলায় বড় মাছ কেনার সুযোগ হয়। তাই প্রতিবছরই মেলায় আসি। তিনি জানান, ১২ কেজি ওজনের একটি ব্রিগেড মাছ ৩শ টাকা কেজি দরে ৩ হাজার ৬শ টাকায় কিনেছেন।
মাছ ব্যবসায়ী তফিজ উদ্দিন জানান, এবার মাছ বিক্রি করে তেমন লাভ হয়নি। তিনি বলেন, ধানের দাম কম এবং অকাল বন্যায় কৃষকদের ক্ষতি হওয়ায় ক্রেতা কম ছিল। ফলে দুপুরের পর অনেক মাছ অর্ধেক দামেও বিক্রি করতে হয়েছে।
মেলার ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৮২ সালে বিয়াশ মিস্ত্রিপাড়ার শিবশংকর কালি মাতা নামে এ মেলার সূচনা করেন। প্রথমদিকে বিয়াশ কালিবাড়ির বটতলায় মেলা অনুষ্ঠিত হলেও ১৯৯২ সাল থেকে বিয়াশ স্কুল মাঠে এর আয়োজন করা হচ্ছে। সময়ের পরিক্রমায় এটি এখন জামাই মেলা নামে সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
বিয়াশসহ আশপাশের ১৫ থেকে ২০টি গ্রামের মানুষ প্রতিবছর এ মেলায় অংশ নেন। মেলা উপলক্ষে জামাইদের পরবি নামে উপহার বা অর্থ দেওয়া হয়। সেই টাকা দিয়ে জামাইরা বড় মাছ, মাংস, দই-মিষ্টি কিনে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান। এ কারণেই মেলাটি এলাকায় জামাই মেলা নামে পরিচিতি পেয়েছে।
মেলার আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব প্রভাষক কামরুল হাসান বলেন, বিয়াশ জামাই মেলা এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের উৎসব। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও মনিটরিং করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মানুষ আনন্দঘন পরিবেশে মেলা উপভোগ করেছে। তবে আকস্মিক বন্যায় বোরো ধানের কিছু ক্ষতি না হলে মেলা আরও জমজমাট হতো।