আইন পেশায় সফলতার দশ পেরিয়ে একাদশ বর্ষে পদার্পণ করেছেন এড. তাপস
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ জন্ম গ্রহণ করেন যাদেরকে মানুষ এক নামেই চিনে। তাঁদের মত এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকারও কুমিল্লা আদালত অঙ্গণে পরিচিত মুখ। আইন পেশায় ভাল করার পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মী হিসেবেও সুনাম কুড়িয়েছেন। ছোটবেলা থেকে-ই মেধাবী ও চঞ্চল স্বভাবের তাপস বিভিন্ন খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
২০১৬ সালের ১৪ মে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক সনদ প্রাপ্তির পর ৯ জুন কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগ দিয়ে পেশাগত জীবনে আত্মপ্রকাশ করেন। মানব সেবার ব্রত নিয়ে শৈশব থেকেই আইন বিষয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখতেন এড. তাপস। তাহার পিতার স্বপ্ন ছিলো সন্তান একদিন আইনজীবী হবে। তবে দুঃখের বিষয়, সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় অবশেষে পিতার স্বপ্ন বায়স্তবায়ন হলেও আইনজীবী হওয়ার মাসখানেক আগে তাহার পিতা পরলোকগমন করায় আইনজীবী হিসেবে সন্তানকে দেখে যেতে পারেনি। সনদ প্রাপ্তির পর কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি সিনিয়র এডভোকেট মোঃ নূরুল আমিন ভূঁইয়া’র সেরেস্তায় সততা, নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে জুনিয়র হিসেবে কাজ করে ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলা বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে গড়ে তুলেছেন নিজেকে একজন দক্ষ আইনজীবী হিসেবে। তাঁর পিতা স্বর্গীয় নিখিল চন্দ্র সরকার ছিলেন একজন আইনজীবী সহকারী (মুহুরী)। বাবার প্রেরণাতেই ছোটবেলা থেকে কালো কোর্টের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয় তাপসের।
এই কর্মযোগী মানুষটি আইন পেশায় সফলতার দশ পেরিয়ে একাদশ বর্ষে পদার্পণ করেছেন। দীর্ঘ এই পেশাগত যাত্রায় তিনি একজন দক্ষ, মেধাবী ও ন্যায়নিষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে কুমিল্লা আদালত অঙ্গনে বিশেষ সুনাম অর্জন করেছেন। তাঁর প্রখর বিচারবোধ, গভীর আইনি জ্ঞান এবং মক্কেলদের প্রতি আন্তরিক দায়িত্ববোধ তাঁকে সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে একজন আস্থাভাজন ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রতি তাঁর অটল অবস্থান এবং পেশাগত সততা তাঁকে আইন অঙ্গনে একটি সম্মানজনক অবস্থানে অধিষ্ঠিত করেছে। আইন পেশার পাশাপাশি তিনি একজন দায়িত্বশীল সংবাদকর্মী, সমাজসেবক ও সংগঠক হিসেবেও সুপরিচিত। সমাজের বিভিন্ন সমস্যা, মানুষের অধিকার, সামাজিক সচেতনতা এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসিত। একজন সংগঠক হিসেবে তাঁর নেতৃত্বগুণ, বিচক্ষণতা এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার মানসিকতা তাঁকে আরও জনপ্রিয় ও সম্মানিত করেছে। অ্যাড. তাপস চন্দ্র সরকার শুধু আইন ও সাংবাদিকতা নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও সক্রিয়। নিজেকে তিনি সবসময় একজন সেবক হিসেবে দেখতে চান। তাঁর বিশ্বাস, “মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারাটাই প্রকৃত মানবতা।"
আইন পেশায় যোগদানের গৌরবময় ১০ বছর পূর্তিতে এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার তার স্বপ্ন ও সফলতার গল্প শুনিয়েছেন। তিনি বলেন- বাবার অনুপ্রেরণায় মানব সেবার ব্রত নিয়ে সাংবাদিক থেকে আইনজীবী পেশায় এসেছি। সবাই স্বপ্ন দেখে বড় হয়ে একটি সম্মানজনক পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করে ক্যারিয়ারকে উজ্জ্বল করবো। মানুষ ভেদে স্বপ্নও থাকে আলাদা আলাদা। তদুপরি যতোগুলো সম্মানজনক পেশা আছে তার মধ্যে আইনজীবী হলো একটি। দক্ষ আইনজীবী হতে চাইলে এ পেশার সহিত লেগে থাকতে হবে।
এ পেশায় যারা আসতে চান তাদের উদ্দেশ্যে এড. তাপস চন্দ্র সরকার বলেন- "যারা শর্টকাট পথ খোঁজেন তাদের জন্য আইন পেশা নয়। কোর্টের বারান্দায় এসে কিছু করতে পারছি না বলে অল্পতে হতাশ হয়ে পড়লে তাকে দিয়ে আইন পেশা হবে না। এ পেশায় লেগে থাকতে হবে। শুরুতেই কোন টাকা পয়সা হবে না- এমন ধারণা নিয়ে পেশাকে ভালোবেসে শুরু করতে হবে। লেগে থাকলে টাকা পিছু ছুটবে। টাকা আপনার অজান্তেই যখন আসবে তখন টাকা রাখার জায়গা পাওয়া যাবে না। ভালো আইনজীবী হতে পারলে টাকা আপনাকে অনুসরণ করবে।"
তিনি আরও বলেন- আইন পেশা সাধনার বিষয়; ধৈর্য থাকতে হবে। দেশে-বিদেশে সবচেয়ে পরিচিত ও চ্যালেঞ্জিং পেশাগুলোর একটি হলো আইন পেশা। জ্ঞান, প্রজ্ঞা, মেধা, বিচক্ষণতা, বিচার বিশ্লেষনী ক্ষমতা, পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ, সততা, পরিচ্ছন্ন আচরণ-ভূষণ দ্বারা নিজ পেশার মর্যাদা উজ্জ্বল করাটা-ই একজন আইনজীবীর দায়িত্ব। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় সমাজ ও রাষ্ট্রের মঙ্গলে দেশের কল্যাণমুখী রাজনীতিতে অ্যাডভোকেটদের সক্রিয় প্রতিনিধিত্ব থাকবে; এটি স্বাভাবিক চিন্তা। আইন নিয়ে জীবিকা একটি মহান পেশা। তবে সেবার মনোভাব নিয়ে আইন পেশায় কাজ করতে হবে। এই পেশা একটি মহৎ পেশা। এর মাধ্যমে অধিকার বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রাপ্তির বিষয়ে সহায়তা করা যায়। মানুষ মানুষের জন্য সেবার ব্রত নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারাই প্রকৃত মানবতা। সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্ম-বর্ণ, ধনী-দরিদ্র, বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি পেশার মানুষ বিবেচনা করা যায় না। মানবিক মূল্যবোধ উজ্জ্বিবীত হয়ে যেকোন পরিস্থিতিতে অধিকার বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রাপ্তির বিষয়ে সহায়তা করার সুযোগ একজন আইনজীবীর রয়েছে।
এই কর্মযোগী মানুষটি ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলাধীন লামচরী গ্রামে ১৯৮০ সালের ৫ই এপ্রিল পিতা নিখিল চন্দ্র সরকার ও মাতা যোগমায়া সরকার এর ঘর আলোকিত করে জন্ম নেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই ছিলেন মেধাবী ও চঞ্চল। শিশুকালে মাতৃবিয়োগে তাঁর শৈশব ও কৈশোর ছিল দুঃখ কষ্টের। একান্নবর্তী পরিবারে বেড়ে না উঠলেও মামার বাড়ীতে একমাত্র মামার অভাবের সংসারে অর্ধহারে অনাহারে দিনাতিপাতের মধ্যদিয়ে মামা ও দিদিমার আদর যত্নে বেড়ে উঠেছেন। ছোটবেলা থেকে-ই একটু চঞ্চল ও দুষ্ট স্বভাবের হওয়ার কারণে মামার বাড়ী মতলব উত্তর উপজেলাধীন কোয়রকান্দি গ্রামের সবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ভাগিনা তাপস। আর শিক্ষাজীবনে তাঁকে স্কুল কলেজের শিক্ষকরা খুব ভালোবাসতেন।
তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সুখ সমৃদ্ধময়। তাঁর জীবনসঙ্গিনী রিতা রানী মজুমদার কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কেরণখাল ইউনিয়নের ডুমুরিয়া মজুমদার বাড়ির নিবাসী সুবাস চন্দ্র মজুমদার এর একমাত্র সন্তান। তাঁদের একটি কন্যা ও একটি পুত্র রয়েছে। পরিবার নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা মহানগরীর কালিয়াজুরী এলাকায় বসবাস করছেন।
এ উপলক্ষে সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধবী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুক, ইমু ও হোয়াটসঅ্যাপ এর মাধ্যমে তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। সকলের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও তিনি সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাবেন এবং তাঁর কর্মগুণে মানুষের হৃদয়ে আরও দৃঢ় স্থান করে নেবেন।”