আইনজীবী কাজী মুমিনুল হাসানের আইনি প্রচেষ্টায় জামিন-অযোগ্য ধারার মামলায় কিশোরের জামিন
নিহারেন্দু চক্রবর্তী, নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের জি আর মামলা নং-১২/২০২৬-এর একটি আলোচিত মামলায় জামিন-অযোগ্য ধারায় অভিযুক্ত ১৭ বছর বয়সী কিশোর আসাদুল মিয়া শিশু আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তার পক্ষে আদালতে শুনানি ও জামিন আবেদন পরিচালনা করেন আইনজীবী কাজী মুমিনুল হাসান।
মামলার চার্জশিটে আসাদুল মিয়ার বিরুদ্ধে ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৫ ও ৩০৭ ধারার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ৩২৫ ও ৩০৭ ধারা সাধারণত জামিন-অযোগ্য। ঘটনার সময় জন্মসনদ অনুযায়ী তার বয়স ছিল ১৭ বছর ৬ মাস, ফলে তিনি আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু হিসেবে বিবেচিত হন।
আইনজীবী কাজী মুমিনুল হাসান জানান, "শিশু আইন, ২০১৩-এর মূল উদ্দেশ্য হলো আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুর সর্বোচ্চ স্বার্থ নিশ্চিত করা। আমার মক্কেল স্বেচ্ছায় শিশু আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালতের সামনে আমরা তার বয়স, মামলার নথিপত্র এবং এজাহার ও চার্জশিটের অসংগত বিষয়গুলো তুলে ধরি। এসব বিষয় বিবেচনা করে বিজ্ঞ শিশু আদালত জামিন মঞ্জুর করেছেন।"
তিনি আরও বলেন, "জামিন দেওয়া মানেই কাউকে নির্দোষ ঘোষণা করা নয়। বিচারিক প্রক্রিয়া চলবে এবং আদালতেই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। তবে একজন শিশুর অধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাও আদালতের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।"
আইনজীবী মহলের মতে, শিশু আইনের বিধান অনুযায়ী প্রতিটি শিশুর ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক নয়, বরং পুনর্বাসন ও সর্বোচ্চ স্বার্থের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই নীতির আলোকেই আদালত এ আদেশ দিয়েছেন।